বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা:
জামালপুর পৌরসভার গাড়িতে করে গার্বেজ রেখে গেলো বাসার গেইটে। প্রান ভয়ে ঘরে ফিরতে পারছেনা একটি অসহায় পরিবার। জানাযায়, জামালপুরের বেলটিয়া এলাকায় একেএম একরামুল হক রুবেল নামে এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মেয়র ছানুয়ার হোসেন ছানুর অবৈধ দখলদারিত্ব ও দাম্ভিকতায় নিজ গৃহে ফিরতে পারছেনা। জানা যায়, জামালপুর পৌরসভার অন্তর্গত বেলটিয়া খুপিবাড়ী মৌজায় সিএস ৩৪৭ নং ৫০ক খতিয়ানে ১৫ সতাংশ ভুমি ১৯৯১ সনে ক্রয় করে জনৈক ব্যাংক কর্মকর্তা একেএম একরামুল হক ২০০৫ সনে পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত প্লান মোতাবেক সীমানা প্রাচীর সহ একটি দ্বিতল বাড়ী ও পার্শে একটি একতলা বিশিষ্ট গৃহ নির্মান করে বসবাস করে আসছিলেন। হঠাৎ ২০১৭ সালে পৌর কর্তৃপক্ষ লাগাতার পাশের পলিশা মৌজার বিলুপ্ত একটি হালট রাস্তা নির্মানের উদ্যোগ নেন। পলিশা মৌজার হালটটি তৎসংলগ্ন বসবাসকারী কর্তৃক বেদখল থাকায় সঠিক পরিমাপ নির্ধারন না করে একরামুল হকের ভুমির অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে ২৩/০২/১৭ ইং ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপসারন করার নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিজ্ঞ আদালতে ১৩৯/১৭ মোকদ্দমা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত নালিশি ভুমিতে ২৬/০২/১৭ ইং Statas quo আদেশ প্রদান করেন। Statas quo আদেশ অভগত হয়েও তৎকালীন মেয়র জনাব মীর্জা সাখায়াতুল আলম মনি ও পৌর কমিশনার হেলাল উদ্দিন, সার্ভেয়ার এনামুল হকগং অবৈধ লাভবান হয়ে কতিপয় অবৈধ দখলদারদের বাড়িঘর বাঁচিয়ে দিয়ে একরামুল হকের স্ট্যাটাসকো কৃত ভিন্ন মৌজায় অবস্থান কারী ভুমির একতলা পাকা ছাদ বিশিষ্ট গৃহ,১টিটিনের ঘর,বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙা সহ গাছ গাছালি কেটে ফেলে। আদালতের আদেশ অবমাননার জন্য ১৯/১৭ ভায়োলেশন মামলা দায়ের করেন।
মামলা চলমান। পরবর্তিতে বিজ্ঞ আদালত সিসি কমিশন গঠন করে সরজমিনে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেন । কমিশনারের প্রতিবেদন একরামুল হকের পক্ষে যায়,এবং পৌর কর্তৃপক্ষের ভাংচুরের ঘটনাটি অবৈধ বলে রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়। অতপর বিবাদীপক্ষ তাদের লিখিত জবাবে বাড়ীঘর ভাঙার বিষয়টি স্বীকার করে আদালত কর্তৃক আমলে নেয়া হয়। তবে তারা নোটিশ পাওয়ার আগেরদিন ২৫০২/১৭ ইং ভেঙেছে মর্মে স্বীকার করেন। তথ্য প্রযুক্তি অধিকার আইনে বাদী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মুভমেন্ট রেজিষ্টারের কপি সংগ্রহ করে আদলতে জমা দেন। সেই রেজিষ্টার মোতাবেক প্রমানিত হয় ২৬/০২/১৭ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। তৎকালীন মেয়রের প্রভাবে মামলাটি দীর্ঘদিন বিচারের মুখ দেখেনি,আদালতে শুধু তারিখ পরে যাচ্ছে। বর্তমান মেয়র ছানুয়ার হোসেন ছানু ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় বর্তমান কমিশনার মাসুদ করিম পুনরায় হালট সড়কটি নির্মানের বাজেট সংগ্রহ করে পুনরায় একই কায়দায় উদ্যোগী হয়ে উঠেন এবং অবৈধ ভাবে বাড়ীর বিভিন্ন স্থানে লাল দাগে চিহ্নিত করে নির্মান সামগ্রী রাখতে শুরু করেন এবং পেশী শক্তি প্রদর্শন শুরু করিলে বিজ্ঞ আদালতের নিকট পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চাইলে বিজ্ঞ আদলত গুরুত্ত অনুধাবন করে ওসি জামালপুর সদর পূর্বের স্যাটাসকো বহাল রাখার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেন।
উক্ত নির্দেশে ক্ষুবদ্ধ হয়ে বর্তমান মেয়র ছানুয়ার হোসেন ছানু ও মাসুদ কমিশনার আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত ১৮/০৯/২০২২ তারিখ ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক টিনের বাউন্ডারি ভাংচুর সহ স্থাপনা সামগ্রী ভাঙ্গিয়া বসত ভিটার পর্দা ও নিরাপত্তা বিহীন করিয়া ফেল। পুলিশ বাধা দিলে তাদেরকে নিজেকে সরকার দলীয় লোক পরিচয় দিয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে গালিগালাজ করে। পুলিশ চলে গেলে জামালপুর পৌরসভার দুইটি গাড়ী যোগে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা এনে একরামুল হকের বাসার মূল গেইটে ফেলে যাতায়াত বন্ধ করিয়া দেয়। ময়লার গন্ধে বাসার ভাড়াটিয়া সহ এলাকার স্থানীয় লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। মেয়রের এমন অমানবিকতা ও আদালতের আদেশ অমান্য করে দাম্ভিক আচরনের কারনে এলাকায়, প্রশাসন ও সরকার সম্পর্কে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মেয়রের আদালতের প্রতি এমন বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের কারনে মানুষ আদালতের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস হারাতে বসেছে বলে এলাকায় জানা গেছে। বিষযটি জামালপুর পুলিশ সুপারের নজরে আনলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শ করেন । পুলিশ সুপার জামালপুরের নিকট সত্য সাক্ষী দেওয়ার কারনে দুই তিনজকে মারপিট করা হয়েছে বলে জানা যায়। মেয়রের ভয়ে কেউ সাক্ষী দিতে সাহস পাচ্ছেনা। জামালপুর মেয়র ছানুয়ার হোসেনের কাছে সত্যতা জানতে বার বার ফোন করেও থাকে পাওয়া যায়নি।